শুভ্র-সতেজ শরৎ আজ ও আগামীর

শরতরে গোলাপী বিকেল, রুপালি বৃষ্টির ধারা,নখিুঁদ বইছে মঘে-রোদ্দুর খেলা।
শরতরে গোলাপী বিকেল, রুপালি বৃষ্টির ধারা,নখিুঁদ বইছে মঘে-রোদ্দুর খেলা।

শুভ্র-সতেজ শরৎ আজ ও আগামীর। শরতে এই দৃশ্য খুবই নয়নাভিরাম। 

শুভ্র-সতেজ শরতের শেষে চলতি বছরে আবাহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় নাজেহাল দেশবাসীসহ গোটা দেশ। এই বৃষ্টি তো এই রোদ। পরিবেশ ঠাণ্ডা হবার নাম নেই। ভ্যাপসা গরমে হাস পাস করছে শহরবাসী । একটু বৃষ্টি হলে কিছুটা স্বস্তি মিলছে একথা সত্যি, কিন্তু পর ক্ষণেই আবার সেই গরম । বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে একটি নিম্নচাপ। যার কারণে এই বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল । তবে স্বস্তির খবর এটাই যে, এক নাগাড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা অনেকটাই কম । মাঝে মধ্যে এই বৃষ্টি হবে। হাওয়া অফিস এইরকম পূর্বাভাস দিয়েছিল।

যার জেরে গত ৪৮ ঘণ্টায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে । আবহাওয়া অফিসের এই পূর্বাভাসে যারপরনাই অসস্তিতে রয়েছে দেশের ব্যবসায়ীরা ও জনগণ।
বেশ কয়েকদিন পর সমুদ্র শান্ত হয়েছে। আপাতত বাংলাদেশের উপকূল, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতও নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে ।

অন্যদিকে, রাজধানী চট্টগ্রামসহ সারাদেশের আকাশ আজ প্রায় পরিস্কার। সকালে তো রীতিমতো
ররির সোনালী রোদে চারপাশ ঝকঝক করছিল। অবশ্য মাঝে মাঝে মেঘেও ঢেকেছে আকাশ। অ্যাকুওয়েদার বলছে, আজ দুপুরের পর ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। বাতাসে আর্দ্রতা থাকবে ৭০ শতাংশের বেশি। আকাশেও থাকবে মেঘ। বিকেলের পর বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব একটা অবশ্য নেই।

মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়া ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও তো ভারি বৃষ্টিও হতে পারে।

আজ ভাদ্রের শেষ। শরৎকালের এই সময়টা আকাশ থাকে দেখার মতো। শরতে রাতের দৃশ্য খুবই নয়নাভিরাম। শরতের রাতে চাঁদের জ্যোৎস্না ঢেউ খেলে যায় সারাটি রাত। এমন চাঁদনি রাতে কিশোর-কিশোরী কানামাছি খেলে, আর লুকোচুরি খেলা খেলে, গাঁয়ের বধূরা জ্যোৎস্নায় গা ডুবিয়ে নেয়। কিষাণ বধূরা দুর্বা ঘাসের পথ মাড়িয়ে জ্যোৎস্নায় স্নান করে। বধূদের পাদুকা শিশির ভেজা ঘাসের সাথে ঘষে ছপ ছপ মৃদু শব্দ তোলে। ছোট্টমনি চাঁদ আর আকাশের তারা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ে জননীর কোলে। গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা জোনাকি ধরার জন্য জোনাকির পিছনে পিছনে দৌড়ে এবাড়ি থেকে ওবাড়ি, এখান থেকে ওখানে ছুটে। আকাশে তুলোটে মেঘ নীল চাদরের নীচে ভেসে যাচ্ছে অজানার দেশে। তাদের সুধালে মেঘগুলো বলে যেন- যাচ্ছি শরতের বেশে। শরতের সাদা পোশাকে মেঘের আনা-গোনা দেখে আমাদের মনে উদাসির বাঁশি বাজে। উঠোন পেরিয়ে ঘরে ঢোকা চায়না আমাদের মন। মানুষের মন হারিয়ে যায় অপরুপ এই শরতের খেলায়। এদিনের দৃশ্য মিশে জমে রয় হৃদয়ের পরতে পরতে আগামির শরতে। রোদ-বৃষ্টি-গরম যাই হোক না যেকন, দিনটি সবার ভালো কাটুক, এই প্রত্যাশাই করি।

নীল আকাশে জ্যোৎস্নায় গোসল দেয় তারা
হীমেল বাতাস, ভাসমান মেঘমালা
গোলাপী বিকেল, রুপালি বৃষ্টির ধারা
নিখুঁদ বইছে মেঘ-রোদ্দুর খেলা।

মনের কোণে শরতের স্মৃতি কেবলই পসরা সাজায়
আর বলে ফুরাবেনা আমাকে চাওয়ার ইচ্ছা,
মন হারিয়ে যায় অপরুপ এই শরতের খেলায়,
জমে রয় হৃদয়রে কোণে, আগামী শরতের পাতায়।

[-আবদুর রউফ ফাটোয়ারী]

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here