করোনাভাইরাস কোথায় কতদিন বাঁচে

করোনাভাইরাস কোথায় কতদিন বাঁচে
করোনাভাইরাস কোথায় কতদিন বাঁচে

মহামারি করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে যাচ্ছে প্রায় ছয় মাস ধরে। এর মাঝে এই ভাইরাসের প্রকৃতি-বৈশিষ্ট্য জানা, একে নির্মূল করার অসংখ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

কোভিড-১৯ রোগীর হাঁচি, কাশি, কফ থেকেই মূলত ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। কিন্তু প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি এরপর কোন কোন জায়গায় কতদিন বাঁচে তা আমাদের বেশিরভাগেরই জানা নেই। যেহেতু করোনা থেকে রক্ষা পেতে নানা চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা, তাই এই ভাইরাস কোন কোন বস্তু বা তার উপরিভাগে কতদিন বাঁচে, তা জানতে পারলে আরো বেশি সতর্ক হতে পারবো। কারণ সেসব বস্তু ধরার পর আমাদের হাতের মাধ্যমেই করোনা প্রবেশ করতে পারে শরীরে। তাই চলুন জানি এখন পর্যন্ত গবেষকদের উদঘাটন করা করোনার আয়ুষ্কাল কোথায় কতক্ষণ বা কতদিন-

* বাতাসে করোনাভাইরাস ১০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা টিকে থাকতে পারে। এ সময় আরেকজন মানুষকে সংক্রমণ করার ক্ষমতা রাখে সে। তবে পরে দুর্বল হয়ে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত ভেসে বেড়ায় ভাইরাসটি।

* প্লাস্টিকের উপরিভাগে করোনাভাইরাস বাঁচে ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত। আমরা প্রতিদিন যেসব প্লাস্টিকের বস্তু ধরি, সেগুলোর মধ্যে খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল ও দুধের প্যাকেট, ক্রেডিট কার্ড, রিমোট কন্ট্রোল ও ভিডিও গেম কন্ট্রোলার, লাইট ও ফ্যানের সুইচ, কম্পিউটার কিবোর্ড ও মাউস, এটিএম বুথের বাটন, খেলনা এসব অন্যতম।

* গবেষকরা এখন পর্যন্ত গবেষণায় জানতে পেরেছেন স্টেইনলেস স্টিলের ওপর করোনাভাইরাস ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। স্টেইনলেস স্টিলের মধ্যে দরজার হাতল, রেফ্রিজারেটর, চাবি, চামচ, রান্নার পট ও প্যান, কারখানার যন্ত্রপাতি অন্যতম।

* অ্যালুমিনিয়ামের উপর ২ থেকে ৮ ঘন্টা টিকে থাকতে পারে। যেমন অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপার, কোমল পানীয়ের ক্যান, অ্যালুমিনিয়ামের পানির বোতল প্রভৃতি পণ্যে।

* ধাতব বস্তুর ক্ষেত্রে তামার উপরিভাগে সবচেয়ে কম সময় ৪ ঘণ্টা করোনা বাঁচে বলে জানতে পেরেছেন গবেষকরা। কয়েন, রান্নার সরঞ্জাম, জুয়েলারি, ইলেকট্রিকের তার এসব তামা দিয়ে তৈরি হয়।

* অনেকের ধারণা ছিল টাকার উপর করোনাভাইরাস বেশিক্ষণ টিকে থাকে না। কিন্তু গবেষকরা বলছেন কাগজের টাকা, স্টেশনারি জিনিসপত্র, খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, টিস্যু, পেপার টাওয়েল, টয়লেট পেপার, এসবের ওপর করোনাভাইরাস কয়েক মিনিট থেকে ৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

* জানালার কাঁচ, আয়না, পানি খাওয়ার গ্লাস ও জগ, টিভি, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে করোনোভাইরাস তিন দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

* খাবার বা পণ্য সামগ্রী ধারণ করা কার্ডবোর্ডের ওপর করোনা সহ কোনো ভাইরাস ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় বাঁচে না।

* কাঠের টেবিল, ফার্নিচার, আসবাবপত্রে করোনাভাইরাসের মতো অন্য সব ভাইরাস টিকে থাকতে পারে ২ দিন।

* সিরামিকের তৈরি থালা, মগ বা আসবাবপত্রে ৫ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে করোনাভাইরাস।

* বাইরে বা অফিস থেকে ফিরে প্রতিদিন জামা-কাপড় ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আপনি যদি অন্যদের কাছ থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্বে থাকেন, তাহলে জামা কাপড় না ধুলেও চলবে। তবে আপনার আশেপাশে কেউ যদি হাঁচি-কাশি দেয় তাহলে জামা-কাপড় ধুয়ে ফেলতে হবে। কারণ করোনাভাইরাস জামা-কাপড়ের ওপর ২ দিন টিকে থাকতে পারে।

* জুতা, ঘরের ফ্লোর, মানুষের ত্বক ও চুলে করোনাভাইরাস কতদিন টিকে থাকতে পারে, তা এখনো জানা যায়নি।

* গবেষকরা বলছেন খাবারের ওপর করোনাভাইরাসের উপস্থিতি খুব কম থাকে। তবে স্বাস্থ্যকর পরিবেশের, নিরাপদ খাবার খেতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আর খাওয়ার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

[তথ্যসূত্র: ওয়েবএমডি, হেলথলাইন]

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here