সূচক বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ রেকর্ড

সূচক বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ রেকর্ড
সূচক বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ রেকর্ড

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিন গতকাল রোববার সূচক বৃদ্ধিতে ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৩২ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে ৪৩৮২ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। এক দিনে সূচক বৃদ্ধিতে এটি রেকর্ড। ২০১৩ সালের ২৯ জানুয়ারি চালুর পর ডিএসইএক্স এক দিনে এত পয়েন্ট বা হারে কখনও বাড়েনি। এর আগের রেকর্ড উত্থান হয় ২০১৫ সালের ১০ মে। ওই দিন সূচক ১৫৪ পয়েন্ট বা পৌনে ৪ শতাংশ বেড়ে ৪২৭৭ পয়েন্ট ছাড়ায়। শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে সূচক পতনে পরপর দু’দিন ‘সেঞ্চুরি’ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকসহ নানা পদক্ষেপের কারণে সপ্তাহের শেষ দিকে মোড় ঘুরে যায় বাজারের।

যে কোনো সূচক বিবেচনায় অবশ্য গতকালের এ উত্থান ছিল প্রায় আট বছরের সর্বোচ্চ। ডিএসইএক্স সূচক চালুর আগের প্রধান সূচক ডিএসই জেনারেল ইনডেক্স (ডিজেন) ২০১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ৩২৯ পয়েন্ট বা ৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৩৯৪৫ পয়েন্ট ছাড়ায়। পুরোনো এ সূচকের সর্বকালের রেকর্ড উত্থান হয়েছিল এরও এক বছর আগে, ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি। ওই দিন সূচকটি ১০১২ পয়েন্ট বা ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে ৭৫১২ পয়েন্ট ছাড়ায়।

সাম্প্র্রতিক সময়ের ব্যাপক পতনে বিনিয়োগকারীরা এ বাজার নিয়ে যখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখনই সূচকের এত বড় উত্থান হলো গতকাল। শেয়ারবাজার-সংশ্নিষ্টদের মতে, বাজার ঘুরে দাঁড়াতে এমন উল্লম্ম্ফন না হলে তা আরও হতাশা তৈরি করত। অনেকটা স্বস্তির সুরে তারা বলেন, এটি খুবই দরকার ছিল। তা না হলে পরিস্থিতি হয়তো আরও খারাপের দিকে যেতে পারত। এমন পরিস্থিতিতে সূচকের রেকর্ড বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে শেয়ারবাজারের চলমান সংকট নিরসনে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্নিষ্ট নীতিনির্ধারকের বৈঠকের খবর। এরপর শেয়ারবাজারে সরকারি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সবার মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে।

সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারবাজারসহ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল মুদ্রানীতি সংশোধন করেছে। এ ছাড়া গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে শেয়ারবাজারে সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছে। বৈঠকে গভর্নর বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক শেয়ারবাজারে সহায়তার জন্য একটি নীতিমালা করবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকের খবরই এমন উত্থানের নেপথ্যে কাজ করছে বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এবং বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ। মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। যদিও আমরা এখনও জানি না, প্রকৃতপক্ষে ওই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি হয়নি। তবে বাজারে খবর এসেছে, প্রধানমন্ত্রী সরকারি ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগ করতে বলেছেন। সরকারি চার ব্যাংকও বৈঠক করে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এরই প্রভাব পড়েছে লেনদেনে।’

আবু আহমেদও প্রায় একই রকম অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এত দিনের টানা দরপতনে দায়িত্বশীলদের সবাই চুপ ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উদ্যোগ সবার মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত যেসব নির্দেশনা দেবেন, সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নির্দেশনা কাগজে থেকে গেলে পুনরায় দরপতনের শঙ্কা থাকছে।

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজারের এই উত্থান নিয়ে এখনই ভয়ের কিছু নেই। মৌলভিত্তির শেয়ারগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য দেখে মনে হয়, এগুলোর দর যৌক্তিকভাবে বাড়লেও সূচকটি ৬৫০০ পয়েন্ট পর্যন্ত যাওয়া অমূলক কিছু নয়। তবে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ানোর এ চেষ্টা টিকবে কিনা- তা দায়িত্বশীলদের আচরণের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে সংকট থাকলে শেয়ারবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা ইস্যুর সমাধানও আসতে হবে। পাশাপাশি ভালো শেয়ারের জোগান নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সুশাসন ফিরিয়ে আনতে না পারলে এ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।

বাজার-সংশ্নিষ্টরাও গতকালের রেকর্ড উত্থানের বিষয়ে এ দুই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউসের বেশ কয়েকজন নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, গতকাল গভর্নর ফজলে কবিরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএর নেতাদের বৈঠকের খবর উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। জানতে চাইলে বিএমবিএর সভাপতি ও ইবিএল সিকিউরিটিজের এমডি ছায়েদুর রহমান সমকালকে জানান, মূলত শেয়ারবাজারে কীভাবে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে গভর্নরসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেছেন।

বিএমবিএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকও মনে করে শেয়ারবাজার যে পরিস্থিতিতে পড়েছে, এখান থেকে স্বাভাবিক ধারায় আনতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশেষত, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো কীভাবে সহজে ও স্বল্প সুদে ঋণ পেতে পারে, তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলে বৈঠকে তাদের জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ-সহায়তা চেয়ে সরকারের কাছে করা আবেদনের বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগির অর্থ মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠাবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই শেয়ারবাজার সূচক হু হু করে বাড়তে থাকে। বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত কম মৌলভিত্তির শেয়ার বিক্রি করে বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ার কেনেন। সূচকের বড় উল্লম্ম্ফনের কারণে ছোট শেয়ারগুলোরও বিক্রেতা কম ছিল। জানা যায়, লেনদেনের শুরুতে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগের তুলনায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাই বেশি শেয়ার কিনেছেন। যে দরেই বিক্রির অর্ডার ছিল বড় শেয়ারগুলো সে দরেই তারা কিনে নেন। এ কারণে লেনদেন শুরুর মাত্র ১৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ১৪৪ পয়েন্ট বা সাড়ে ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৪২৯৭ পয়েন্ট ছাড়ায়। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় সূচকটি ২০৪ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪৩৫৪ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল।

বৃহৎ মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে ভর করে সূচকের এমন উত্থান লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। লেনদেনের একবারে শেষ মুহূর্তে ডিএসইএক্স সূচক এক দিনে সর্বোচ্চ ২৩৭ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বেড়ে ৪৩৮৭ পয়েন্ট ছাড়ায়। যদিও সমাপনী মূল্যের হিসাবে সূচকটি শেষ পর্যন্ত ২৩২ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। এতে এত দিন যারা অনেক হতাশা নিয়েও বাজারে টিকে ছিলেন, তাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা পুরোনো পুঁজি ফিরে পেতে এবারের ঘুরে দাঁড়ানো যাতে দীর্ঘ মেয়াদের হয়, সে প্রত্যাশা করছেন। কেননা, কয়েক বছর থেকেই তারা খারাপ সময় পার করছেন।

দিনের লেনদেন শেষে অনেক দিন পর স্বস্তিতে থাকা বিনিয়োগকারীদের অনেকেই দরপতনের সেই খারাপ সময়ের কথা নিয়েও আলোচনা করেন। তারা বলেন, শেয়ারদর ও সূচকে গতকাল বড় উত্থান হলেও তাদের ক্ষতি একদিনে বা স্বল্প সময়ে কাটিয়ে উঠবে না। কেননা, ২০১৭ সালের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ক্রমাগত দরপতনের মধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজার। ২৬ নভেম্বর ডিএসইএক্স সূচক ৬৩৬০ পয়েন্টে ওঠার পর থেকে চলতি পতনের শুরু। সরকারি ব্যাংকের আমানতের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবিকে ফেরত দিতে হবে- এমন খবরে বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করলে দরপতন শুরু হয়। পরে হঠাৎ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকার্স সভায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানতের হার (এডিআর) কমানোর কথা বলা হলে দরপতন আরও গভীর হয়। এর পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষত খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তার ইস্যু, জাতীয় নির্বাচন, বিদেশিদের শেয়ার বিক্রিসহ নানা কারণে লাগাতার দরপতন হতে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল চলতি বছরের শুরুতে। এক দিনের ও সপ্তাহের সার্বিক দরপতন বিবেচনায় নিলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের দরপতন গত আট বছরের রেকর্ড ভাঙে। শেয়ারদর তলানিতে নামতে থাকে। গত ১৪ জানুয়ারি লেনদেনের একপর্যায়ে সূচকটি ৪০০৯ পয়েন্টে নেমে এসেছিল। এরপর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন পদক্ষেপের খবরে গত তিন দিনে সূচক বেড়েছে ৩৪৫ পয়েন্ট।

দিনের লেনদেন পরিস্থিতি :গতকাল লেনদেন হওয়া ৩৫৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৪৬টিরই বা ৯৭ শতাংশের দর বেড়েছে। কমেছে মাত্র ছয়টির দর। দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে গতকাল লেনদেনের কোনো না কোনো সময়ে ৮৮টি দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। তবে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির এবং বিক্রেতাশূন্য ছিল ৬২টির দর। তা ছাড়া ৯ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারদর বেড়েছে ৫১টির। অবশ্য এর বেশিরভাগই ছিল দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ার।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভালো শেয়ারগুলোর মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বেক্সিমকো ফার্মা, ইবনে সিনা, আইসিবি, লিনডে বিডি ও মারিকোর সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম অনুযায়ী গতকাল সর্বোচ্চ যে দরে কেনাবেচা হতে পারত, লেনদেনের প্রায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ওই দরে কেনাবেচা হয়েছে। এমনকি বিপুল পরিমাণ শেয়ার ক্রয় আদেশের বিপরীতে কোনো ক্রেতা ছিল না। যারাই শেয়ার বিক্রি করতে চেয়েছে, চোখের পলকেই তা বিক্রি হয়ে গেছে।

একক খাত হিসেবে ব্যাংক খাতের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। খাতটির ৩০ কোম্পানির সবক’টির গড়ে ৫ শতাংশ দর বেড়েছে, তাতেই সূচকে যোগ হয়েছে ৫৭ পয়েন্ট। স্কয়ার ফার্মার অবদানে ভর করে ওষুধ ও রসায়ন খাতেরও অবদান ছিল প্রায় ৫৭ পয়েন্ট, যদিও এ খাতের ৩২ কোম্পানির সবক’টির দর গড়ে ৫ শতাংশের কম বেড়েছে। শতাংশের হিসাবে গতকাল টেলিযোগাযোগ খাতের দুই কোম্পানি গ্রামীণফোন ও সাবমেরিন কেবলসের সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ শতাংশ দর বেড়েছে। বড় খাতগুলোর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বস্ত্র খাতের শেয়ারগুলোর ৬ শতাংশের ওপর দর বেড়েছে।

শুধু ডিএসই নয়, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতেও শেয়ারদর ও সূচকে বড় উত্থান হয়েছে। এ বাজারে লেনদেন হওয়া ২৫৭ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশের দর বেড়েছে। এ বাজারের সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে ৪১৩ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।

গত বৃহস্পতিবার(১৬জানুযারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ওই বৈঠকে অংশ নেন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। পরে বিকেলে তার সংস্থা থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পতন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছেন। যেগুলোর অন্যতম ছিল সরকারি চার ব্যাংককে শেয়ার কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়ে। কিন্তু পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে বলা হয়, শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সরকার যে ধরনেরই সাহায্য করা দরকার, তা ধারাবাহিকভাবে করবে। এ বাজারকে বিকশিত করতে স্বল্পমেয়াদি কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি সংশোধন করা হলেও বিষয়টি সব বিনিয়োগকারী অবহিত নন। তবে যারা জেনেছেন, তারা এটি খুব বেশি নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। আনোয়ার হোসেন নামের ঢাকার এক বিনিয়োগকারী বলেন, এটা ঠিক যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছে। চরম সংকটকালে এ ধরনের বৈঠকের খবর তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনেকটা খড়কুটো আঁকড়ে ধরে বাঁচার মতো করে নিয়েছেন। এরই প্রতিফলন দেখা গেছে রোববারের উত্থান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here