চট্টগ্রাম-কুয়েত ফ্লাইট ৩০ অক্টোবর থেকে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

চট্টগ্রাম-কুয়েত ফ্লাইট আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। চট্টগ্রাম-কুয়েত রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। প্রবাসী বাংলাদেশীদের সুবিধার্থে এ উদ্যোগ নিয়েছে বিমান। বর্তমানে কুয়েতে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় এক লাখ বাংলাদেশী কাজ করছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে চট্টগ্রাম প্রবাসীরা চট্টগ্রাম থেকে কুয়েতে সরাসরি ফ্লাইটের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান।

কুয়েতে বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম জানান, সপ্তাহে একদিন বুধবার কুয়েত থেকে চট্টগ্রাম সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যা ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। এতে কুয়েতে থাকা ফেনী থেকে শুরু করে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটিসহ পূর্বাঞ্চলের প্রবাসীরা লাভবান হবেন। আর ঢাকা-কুয়েত রুটে পরিচালিত সাপ্তাহিক দুটি ফ্লাইট আগের মতো শুক্রবার ও রোববার পরিচালনা করবে বিমান।

অব্যাহত লোকসানের কথা চিন্তা করে চট্টগ্রাম-কুয়েত সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা ছাড়াও আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-দিল্লি রুটে ফ্লাইট বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে লোকসানের কারণে বন্ধ করা হচ্ছে ইয়াঙ্গুন রুটের ফ্লাইট।

ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) জানিয়েছে ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে ৩০-৪০ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক যান। ২০০৬ সালে কুয়েতে শ্রমিক গিয়েছিলেন ৩৫ হাজার ৭৭৫ জন। এর পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কুয়েতে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ হতে শুরু করে। ২০০৭ সালে দেশটিতে শ্রমিক পাঠানো হয় ৪ হাজার ২১২, ২০০৮ সালে ৩১৯, ২০০৯ সালে ১০, ২০১০ সালে ৪৮, ২০১১ সালে ২৯, ২০১২ সালে ২ এবং ২০১৩ সালে মাত্র ৬ জন। তবে ২০১৪ সাল থেকে দেশটিতে পুনরায় শ্রমিক রফতানি শুরু হয়। ওই বছর বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে দেশটিতে যান মোট ৩ হাজার ৯৪ জন বাংলাদেশী। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে যান ১৭ হাজার ৪৭২, ২০১৬ সালে ৩৯ হাজার ১৮৮, ২০১৭ সালে ৪৯ হাজার ৬০৪, ২০১৮ সালে ২৭ হাজার ৬৩৭ এবং চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত ৭ হাজার ৫৩৩ জন বাংলাদেশী কুয়েতে পাড়ি দিয়েছেন।

বিএমইটি জানিয়েছে, ১৯৭৬ সাল থেকে চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে যাওয়া মোট শ্রমিকের সংখ্যা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৪। এর মধ্যে নারী শ্রমিক ৮ হাজার ৯৮১ জন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here