তৈরি পোশাক শিল্পের সংকট কমাতে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে

বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি: আমাদের পোশাক খাত কতটা প্রস্তুত?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক
বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি: আমাদের পোশাক খাত কতটা প্রস্তুত?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক
‘বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি: আমাদের পোশাক খাত কতটা প্রস্তুত ‘ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন,তৈরি পোশাক শিল্পের সংকট কমাতে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে।

বণিক বার্তা-স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, জরুরি উদ্যোগ না নিলে পোশাক রফতানিতে সংকট আরো বাড়বে। দেশের সমুদ্রবন্দরে পণ্য খালাসে সময় লাগে গড়ে দুই সপ্তাহের বেশি। বিমানবন্দরে আরও বেশি সময় লেগে য়ায়। বিমানবন্দরেও প্রায় আটদিন লাগে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আর কোনো দেশের সমুদ্র ও বিমানবন্দরে পণ্য খালাসে এত দীর্ঘ সময় লাগে না। এর পাশাপাশি ঘাটতি আছে পোশাক পণ্যের বৈচিত্র্যকরণেও। দক্ষ মানবসম্পদের অভাবও রয়েছে খাতটিতে। খাতসংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞদের মতে এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ না নিলে তৈরি পোশাক শিল্পের সংকট আরো বাড়বে।

ঢাকার গুলশানে ওয়েস্টিন হোটেলে গতকাল ২৮ নভেম্বর বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি: আমাদের পোশাক খাত কতটা প্রস্তুত  শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বণিক বার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ। বৈঠকে এসব কথা
উঠেএসেছে আলোচনায়।

বণিক বার্তা সম্পাদক দেয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সূচনা বক্তব্য রাখেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের হেড অব কমার্শিয়াল ব্যাংকিং এনামুল হক। প্রতিপাদ্যের ওপর পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. কেএএস মুরশিদ।

এতে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সহ-সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে আজাদ, এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক এমআই সিদ্দিক, বস্ত্র অধিদপ্তরের পরিচালক ড. নাছিমা আকতার, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর নীতি) মো. আলমগীর হোসেন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল।

আলোচনার শুরুতে সূচনা বক্তব্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের হেড অব কমার্শিয়াল ব্যাংকিং এনামুল হক বলেন, প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৩তম অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়। এ উন্নয়নে তৈরি পোশাক খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শিল্পটির অধিকতর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কেএএস মুরশিদ এই প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর পর্যালোচনায় বলেন, আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প মাথা তুলে দাঁড়ানোর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল সহজে বাজার ধরতে পারা। বাজার ধরার ফলে প্রচুর বিনিয়োগ এসেছে। এখনো আমরা এ শিল্পে বিশ্বের দ্বিতীয় রফতানিকারক। অনেকে বলছে, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের কাছে অবস্থান হারিয়েছে। পোশাক শিল্প একটা সংকটকাল পার করছে এটা ঠিক, কিন্তু বাংলাদেশকে এখনই অন্য কোনো দেশের সঙ্গে তুলনা করা উচিত হবে না। আমরা এখনো ক্রয়াদেশ পাচ্ছি, যদিও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। বেতন-জ্বালানি-পরিবহন খরচ বেড়েছে, উৎপাদনের সক্ষমতাও আছে, কিন্তু কাঁচামাল নেই। এগুলোসহ নানামুখি সংকটের কারণে অন্তত দুই বছরের জন্য হলেও যথাযথ প্রণোদনা দেয়া হলে শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। প্রণোদনা দিলে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প মাথা থুবড়ে পড়বেনা।

নির্ধারিত এই প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর পর্যালোচনার পর সম্মানিত আলোচকরা পোশাক খাত নিয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন। এ সময় তারা বন্দর অবকাঠামো, মজুরি বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ ও সৃজনশীলতায় ঘাটতিসহ বিভিন্ন সংকটের ওপর আলোকপাত করেন। সে সঙ্গে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলায় চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নীতি প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখলাম, বেশ বড় অনেক প্রতিষ্ঠানকে তাদের ইউনিট বন্ধ করে দিতে হয়েছে। চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, ব্যবসাগুলো আমাদের এখানে আসবে। কিন্তু সেগুলো ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও কিছুটা মিয়ানমারে গেছে। বেশকিছু ব্যবসা পাকিস্তান ও ভারতে যাচ্ছে। আমরা ব্যবসা নিতে না পারার পেছনে মূল সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রথমেই আছে বন্দর। ক্রেতারা বাংলাদেশে ক্রয়াদেশ দেয়া কমিয়েছে। কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলছেন, অনেক পণ্য মজুদ হয়ে আছে। কিন্তু আমাদের সক্ষমতা তো বসে থাকতে পারে না।

এ কে আজাদ আরও বলেন, ক্রেতারা বলছে, স্পিড দিতে হবে, ইনোভেশন দিতে হবে ও গ্লোবাল ফুট প্রিন্ট চাচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে তৃতীয় কোনো দেশে উদ্যোক্তার বিনিয়োগ থাকলে সেখানে তারা ব্যবসা দেবে। আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম, ভারতসহ যাদের নাম আসে, তাদের সবারই থার্ড কান্ট্রিতে বিনিয়োগ আছে। কিন্তু থার্ড কান্ট্রিতে বিনিয়োগ করতে গিয়ে আমি নিজে ভুক্তভোগী। আশির দশকে যে পণ্য তৈরি করতাম, এখনো আমরা সেই পণ্যগুলোর ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু বেসিক পণ্যের ব্যবসাগুলো বাংলাদেশ থেকে ধীরে ধীরে চলে যাবে। ইনোভেশন ও স্পিড আয়ত্ত করতে না পারলে আমরা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাব।

তৈরি পোশাক শিল্পে কাঁচামাল ও ফ্যাব্রিকস গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় উল্লেখ করে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, প্রতি বছর আমরা চীন থেকে বিপুল পরিমাণ কাপড় আমদানি করছি। মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, এ শিল্প বাঁচাতে গেলে সবচেয়ে বেশি দরকার ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ।

আমরা ১০০ ইকোনমিক জোন করছি। এটাকে বিভিন্ন খাতে ভাগ করে আলাদা পল্লী হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। তাতে সব ধরনের শিল্প রক্ষা পাবে। অপরিকল্পিত কোনো উন্নয়ন যেন না হয়। এছাড়া আমাদের বন্দরে পণ্য খালাসে মাত্রাতিরিক্ত সময় নেয়াটা বড় ধরনের সমস্যা। এতে তৈরি পোশাক খাতে পণ্য রফতানিতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে এবং খরচ বেড়ে গিয়ে শিল্পের ওপর প্রভাব পড়ছে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, একটা শিল্পের ওপর বেশি নির্ভরতা কখনই ভালো নয়। ইউরোপের দিকে তাকান, তারা টেক্সটাইল দিয়ে উন্নয়ন শুরু করে এখন অন্য শিল্পের দিকে মোড় নিয়েছে। এখন আমাদেরও সেভাবে ভাবতে হবে। তাজরীন ফ্যাশনস ও রানা প্লাজার ভয়াবহতা নিশ্চয়ই আমাদের জন্য সুখকর কিছু ছিল না। কিন্তু এতে আমাদের কিছু উপকারও হয়েছে। আমরা এ শিল্পের সুরক্ষা নিয়ে ভেবেছি। পাশাপাশি আমাদের সক্ষমতা বাড়ানোরও চেষ্টা করেছি। এখন পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা, আমরা বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি। এখান থেকে উত্তরণের জন্য সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।

বিসিআই সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, তৈরি পোশাক খাত কখনো এত বেশি পারিশ্রমিক দিতে পারে না। আমাদের দেশে দক্ষ লোকেরও অভাব আছে। শিক্ষার সঙ্গে পেশার সম্পর্ক কম। এ জায়গায় জোর দেয়া উচিত। নইলে শিল্প টেকানো সম্ভব হবে না। ভারতের মতো দেশ তৈরি পোশাক খাতে ভর্তুকি দিয়ে শিল্প টিকিয়ে রেখেছে, যেন বেকারত্ব না বাড়ে। এখানে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। কম দক্ষতা নিয়ে এত লোককে একত্রে আর কোনো শিল্পে কাজে লাগানো সম্ভব নয়। তাই বেকারত্ব যেন বেড়ে না যায়, সেদিকটি বিবেচনায় হলেও এ শিল্প রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

বিকেএমইএর পরিচালক এমআই সিদ্দিক বলেন, এরই মধ্যে অনেক বিষয় সামনে চলে এসেছে। পাশাপাশি আমার মনে হয় তৈরি পোশাক শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে। নতুন বাজার পাওয়া না গেলে শিল্প ঝুঁকির মধ্যেই থেকে যাবে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের (বিইউটিইএক্স) উপাচার্য আবুল কাশেম গবেষণার মাধ্যমে সৃজনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন । আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন যে ডিজাইনাররা বের হচ্ছেন, তাদের বিষয়ে আমরা নিজেরাও সন্তুষ্ট নই। এর কারণ হচ্ছে, ভালো প্রকৌশলী বের করতে ভালো ওস্তাদ দরকার। আমাদের ফ্যাশন ডিজাইনে ভালো ওস্তাদ বা ভালো শিক্ষকের ঘাটতি আছে। এটা দেশের ভেতর থেকে পাওয়া সম্ভব নয়, দেশের বাইরে থেকে আনতে হবে। তাহলে ভালো ডিজাইনার পাওয়া সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এছাড়া গবেষণাও বাড়ানো প্রয়োজন। শিল্পসংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের (বিইউটিইএক্স) উপাচার্য আবুল কাশেম।

ড. নাছিমা আকতার(বস্ত্র অধিদপ্তরের পরিচালক) বলেন, এ শিল্পের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাজারের চাহিদার সঙ্গে সেটা সবসময় যথেষ্ট না হলেও আমাদের চেষ্টার কমতি নেই। সরকার এ শিল্পের বিকাশ ও রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যাপারে আন্তরিক।

এনবিআর সদস্য (রাজস্ব নীতি) আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেকে এরই মধ্যে চাকরি হারিয়ে বেকার হতে শুরু করেছে। এটা খুবই ভয়াবহ বিষয়। এভাবে বেকারত্ব বেড়ে গেলে উন্নয়ন আর উন্নয়ন থাকবে না। এখনই টাস্কফোর্স গঠন করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে এ শিল্প রক্ষায় উদ্যোগী হতে হবে।

পোশাক খাতের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় হার ও সুদহার খুবই আলোচিত দুটি বিষয় বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ঋণের সুদহার বেশি, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ ব্যাপারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বলেও আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, তিন বছরের মধ্যে এ শিল্পে ১২ বিলিয়ন ডলার ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের খুব চিন্তা করে কাজ করতে হবে। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প যে কত বড় সংকটে আছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এটা নিয়ে তেমন কেউ ভাবছে না। গত ছয় মাসে আমাদের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অক্টোবরে এটা বেড়ে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ হয়। ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আমার কাছে যে তথ্য আছে, তাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির হার ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এখন বসে আছি নভেম্বর শেষে এটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটা দেখার জন্য। আমাদের দেশে শিল্পটি পরিপক্ব হওয়ার পর এখন অস্ত যেতে শুরু করেছে।

ড. রুবানা হক আরো বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে চীন, মিয়ানমার ও ভিয়েতনাম যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে তাদের বিরুদ্ধে ফরমালি অভিযোগ করার সময় এসেছে। আমাদের শিল্প টেকাতে গেলে সেটা করতে হবে। আমরা আমাদের দেশের চেয়ে নিজেদের বেশি ভালোবেসে ফেলেছি। এখানে সবকিছুর মধ্যে সমন্বয়হীনতা। সরকারি কাজে এক মন্ত্রণালয়ের খবর অন্য মন্ত্রণালয় জানে না। আমরা কেউ পড়াশোনা না করে অভিমত দিই। আমাদের গবেষণার অভাব রয়েছে। বড় বড় ফ্যাক্টরির মালিক হয়েও আমরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছি না। বাড়তি মজুরি দিতে হচ্ছে। জ্বালানির জন্য অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। বন্দরে পণ্য খালাসের ব্যাপারে আর বলে লাভ নেই। প্রধানমন্ত্রীকেই এখানে সবকিছু করতে হয়। সমস্যা সমাধানের আর কেউ নেই।

এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প রক্ষা করতে আমরা সবাই আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে দিন-রাত কথা বলছি। কিন্তু আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। ব্যাংকের সুদহার কীভাবে এখানে ১৪ শতাংশ হয়, বুঝে আসে না। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বলার পরও এটার বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন প্রশ্ন করে বলেন, বেসরকারি ব্যাংকের ওপর কেন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না, এটা বোধগম্য হয় না। তৈরি পোশাক খাত আমাদের দেশকে যেভাবে দিয়েছে, সেভাবে এ খাত কিছু পায়নি। এ শিল্পের জন্য সুবিধা দেয়া থেকে এখন বাধা বেশি আসছে। এ সময় তৈরি পোশাক খাতকে সব অন্যায়-অত্যাচার থেকে বাঁচিয়ে এ শিল্পকে রক্ষা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বর্তমান অবস্থায় এসেছে। এখনো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ ও জটিলতামুক্ত করতে সরকার নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছে। এখনো অনেক কাজ চলছে। আমাদের আমদানি-রফতানিকাজে ব্যবহৃত বন্দরগুলোকে আধুনিক করা হচ্ছে এবং বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকার অনেক কাজ করেছে। বাণিজ্যিক কাজে সেবার মান আরো বৃদ্ধি করার দরকার। সেবার মান বাড়িয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ ও জটিলতামুক্ত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here