নতুন ডাক্তারদের কর্মস্থলে ২ বছর থাকতে হবে

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মন্ত্রীদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জানান আগামীতে বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ করা সকল নতুন ডাক্তারকে তাদের প্রথম কর্মস্থলে দুই বছর থাকতে হবে। এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অনুপস্থিত থাকায় তার পক্ষে উত্তর দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

সম্পূরক প্রশ্নে চুন্নু বলেন, বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়। কোনো কোনো উপজেলায় ২০ থেকে ২৪ জন ডাক্তার নিয়োগ পান। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সেসব জায়গায় দুই থেকে তিনজনের বেশি ডাক্তার নেই। জিজ্ঞেস করলে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা মেডিকেল ও জেলা হাসপাতালে সংযুক্ত আছেন। এই সংযুক্তি বাতিল করা হবে কি না এবং ডাক্তার সংকটের এই সমস্যার সমাধান করা হবে কি না। জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি যে সমস্যার কথা বলেছেন, এই চিত্র অনেকাংশে সত্য। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো সংযুক্তি এখন দেয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে সরকারের কড়াকড়ি আছে। আগামীতে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে যেসব ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, তারা যেখানে যোগ দেবেন, সেখানে দুই বছর থাকতে হবে। তারপর তারা উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য অন্য জায়গায় যেতে পারবেন। কিন্তু নিয়োগের পর প্রথম যোগদান করা হাসপাতালে দুই বছর থাকতে হবে।’

ডাক্তার
ডাক্তার

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন উর রশিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা সরকার উপলব্ধি করছে। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৪ হাজার ৭৫০ জন ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দেশে এলে আশা করছি ১৫ দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া যাবে। পরে সেখান থেকে ৪ হাজার ৫০০ জনকে উপজেলায় পদায়ন করা হবে। এতে প্রতি উপজেলায় ৯ থেকে ১০ জন ডাক্তার সার্বক্ষণিক থাকবেন।’

বিএনপির সাংসদ রুমিন ফারহানার আরেক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে অ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ব্যবহার বন্ধে শিগগির ওষুধ বিক্রেতাদের নির্দেশনা দেয়ার কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ব্যবহারটা রোধ করা যায়, এটি সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সুবিবেচনায় রেখেছি। আমরা দেখছি, রোগীরা কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর রেজিসটেন্স তৈরি হওয়ায় চিকিৎসা নিতে না পেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। কতগুলো ওষুধ আছে, যেগুলো লিগ্যাল প্রেসক্রিপশন ছাড়া ডিসপেনসারির দেয়ার কথা না।

কেউ যথাযথ প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করলে কঠোরতা জারি করা হবে। মানুষ কথায় কথায় অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছে। যেটি প্রযোজ্য না, সেটিও খাচ্ছে। এতে নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবশ্যই সরকার বিষয়টি চিন্তা-ভাবনার মধ্যে রেখেছে। আমি আশা করছি অল্পদিনের মধ্যেই ওষুধ বিক্রেতাদের জন্য এ রকম একটি নির্দেশনা দেয়া হবে।’

আগামীতে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে যেসব ডাক্তার নিয়োগ করা হবে, তাদের যাকে যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাকে সেখানে অর্থাৎ প্রথম কর্মস্থলে দুইবছর থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here