সড়ক পরিবহন আইন: শৃঙ্খলা ফিরেনি

সড়ক পরিবহন আইন: শৃঙ্খলা ফিরেনি
সড়ক পরিবহন আইন: শৃঙ্খলা ফিরেনি

১ নভেম্বর থেকে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ কার্যকর হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলেও এখনো সেটি প্রয়োগে সক্ষম হননি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত। মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট, ২০০৯-এর তফসিলভুক্ত না হওয়ায় নতুন আইনে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। একইভাবে সফটওয়্যার হালনাগাদ না থাকায় জরিমানা আদায় করতে পারছে না ট্রাফিক পুলিশও। আর বিধি প্রণয়ন না হওয়ায় আইনটি কার্যকরের সুফল নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ কোনো জরিমানা আদায় হবে না।

সরেজমিন ঢাকার বিভিন্ন সড়কে আগের মতোই বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েছে। দেখা গেছে মাঝ রাস্তায় বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলতে-নামাতে। চলেছে লক্কড়-ঝক্কড় বাসও। পাল্লা দিয়ে ‘নিষিদ্ধ’ সড়কে চলতে দেখা গেছে রিকশাও। পথচারীরাও শামিল হয়েছে নিয়ম ভাঙার মিছিলে। ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়েছে। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম চিত্রও ছিল। অনেককেই দেখা গেছে সতর্ক হয়ে চলাচল করতে। ঢাকার সড়কে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের সচেতনতা কার্যক্রমও ছিল চোখে পড়ার মতো।

জরিমানা নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের এক ধরনের ক্ষোভ কাজ করছে। ‘অহেতুক’ বিভিন্ন জরিমানার পরিমাণ ‘অস্বাভাবিক হারে’ বাড়ানো হয়েছে বলে মত তাদের। ওয়েলকাম পরিবহনের চালক মো. হাসিবুল মনে করেন, চালকরাও চান নিয়মকানুন মেনে চলতে। কিন্তু রাস্তায় নামলেই অবস্থাটা এমন দাঁড়ায়, অনেক নিয়ম আর মানা সম্ভব হয় না। অনেক সময় সিগন্যাল ভাঙার জন্য যাত্রীরা চাপ দেন। নির্ধারিত সময়ে ট্রিপ শেষ করারও একটা ব্যাপার আছে। যাত্রীরা নির্ধারিত স্টপেজে যেমন দাঁড়ান না, তেমনি মাঝ রাস্তায়ও নেমে যেতে চান। পুরো সিস্টেমটাকেই খারাপ বলছেন তিনি। সিস্টেম না বদলে জরিমানা তিন-চার গুণ করেছে সরকার। এর মাধ্যমে পরিবহন শ্রমিকদের পেটে লাথি দেয়ার পাঁয়তারা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

১ নভেম্বর থেকে নতুন সড়ক আইন কার্যকর হলেও এখনো সেটি প্রয়োগ করতে পারছেন না বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত। এজন্য মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট, ২০০৯-এর আইনটি তফসিলভুক্ত করতে হবে। তফসিলভুক্ত করার কাজটি দু-একদিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানি। তিনি বলেন, আইনটি কঠোরভাবে কার্যকরের আগে মানুষকে সচেতন করে তোলাও জরুরি। বিআরটিএ আপাতত সে দিকটাতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই নতুন আইন কঠোরভাবে কার্যকর শুরু হবে বলে এ সময় ইঙ্গিত দেন তিনি।

একইভাবে আপাতত জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশও। ঢাকায় কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের একাধিক সার্জেন্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের ওপর নির্দেশনা রয়েছে আগামী এক সপ্তাহ আইনটি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে। আপাতত মামলার কার্যক্রমও বন্ধ। জরিমানা আদায়ের মেশিনের সফটওয়্যার হালনাগাদ ও নতুন করে স্লিপ ছাপানোর কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহ থেকে সড়ক আইন কার্যকরের কথা বলছেন তারাও।

আইন বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিআরটিএর চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে নতুন আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে একদিনেই এর সুফল পাওয়া যাবে না। বিশৃঙ্খল হলেও মানুষ এ ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেখান থেকে তাদের বের করে আনতে সময় লাগবে।

নতুন সড়ক পরিবহন আইন হলেও বাস্তবায়ন নেই চট্টগ্রাম নগরীতে। চলছে ফিটনেস বিহীন পরিবহন। লাইসেন্স ছাড়া বিভিন্ন ধরনের পরিবহন নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চালকরা। তবে কোন কোন জায়গায় প্রশাসনের অভিযান থাকলেও আইনের প্রয়োগ না থাকায তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি। চালকরা বলছেন, আইনের নামে হয়রানী করা হচ্ছে তাদের। আর যাত্রীরা বলছেন, শুধু আইন বাস্তবায়ন করলে হবে না তার সঠিক প্রয়োগও করতে হবে।

তবে প্রথমদিকে জরিমানা নয়, নতুন আইন জানিয়ে সতর্ক করছে ট্রাফিক পুলিশ। কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হবে আইন অমান্য করলে শাস্তির বিধান। অনেকেই ভাল করে জানে না নতুন আইন।

নতুন আইনকে স্বাগত জানালেও পরিবহন মালিকরা কয়েকটি ধারায় সংশোধন দাবি করে আসছেন। বিশেষ করে দুর্ঘটনার মামলা ৩০২ ও ৩০৪ ধারায় গ্রহণ না করা, মামলাকে জামিনযোগ্য করা ও বিভিন্ন জরিমানা কমানোর দাবি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here