রাজাকারদের তালিকা, বিসিএসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ১০০ নম্বর: মন্ত্রী

ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উদ্বোধনীতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক
ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উদ্বোধনীতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ১৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর-বাড়ি করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এক একটি বাড়ির মূল্য হবে ১৫ লাখ টাকা। ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজাকারদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নিয়ে অসন্তোষ আছে। যা হওয়া উচিত তা হয়নি। আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর শত বর্ষপূর্তিতে তা পূরণ করা হবে।

মন্ত্রী শুক্রবার(৮নভেম্বর) সকালে গাজীপুর শহরে শহীদ বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-কমিটির ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব বলেন।

মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, পাঠ্যসূচিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা যেমন লেখা থাকবে, একাত্তর সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর আলবদর আলশামস, জামায়াতে ইসলাম, ‘রাজাকারদের কী ভূমিকা ছিল তাও পাঠ্যপুস্তকে লেখা থাকবে। বিসিএস পরীক্ষায় ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রামের ওপর ৫০ নম্বর এবং মুক্তিযুদ্ধের ওপর ৫০ নম্বর, মোট ১০০ নম্বর- ২০২০ সাল থেকে প্রবর্তিত হবে’।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরো বলেন, আগামী জানুয়ারিতে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে পরিচয়পত্র দেয়া হবে। পরিচয়পত্রের পেছনে তারা কি কি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন তা লেখা থাকবে। জানুয়ারি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সব কবর একই নকশায় করে দেয়া হবে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মো. রশিদুল আলম।

মো. রশিদুল আলম বলেন, ৭৫’ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে, তাদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে হবে। আমরা এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গঠন করব।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম তার বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, প্রধানমন্ত্রীর চেতনায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। মুক্তিযাদ্ধাদের নামে সিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করা হবে। তাদের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন গাজীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোজাম্মেল হক, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আখতারউজ্জামান, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইকবাল হোসেন সবুজ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বেনজির আহমেদ, আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য আবদুল হক, ময়মনসিংহের মুক্তিযোদ্ধা মো. আনোয়ার হোসেন, নরসিংদীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মোতালিব পাঠান, নেত্রকোনার মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আমিন, শেরপুরের মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম হিরু, জামালপুরের মুক্তিযোদ্ধা সুজাত আলী, মানিকগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা মমিন উদ্দিন খান, টাঙ্গাইল সদরের মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকশুক্রবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার উদ্বোধন করেছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here