রঙের বর্ণিল ভাষা

রঙের বর্ণিল ভাষা
রঙের বর্ণিল ভাষা

রঙের বর্ণিল ছোঁয়া ঘিরে রাখে আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে। সকল র ঙেরই রয়েছে আলাদা আলাদা ভাষা। আমাদের মনের ভাব, দৃষ্টিভঙ্গি, অনুভূতি, চাহিদা প্রকাশ করি। আমরা নিজের তাগিদে জীবনের প্রয়োজনে ক্রমাগত চলছি ছুটছি আর ছুটছি থামছিনা একটি মুহূর্তও। আমরা স্বপ্ন দেখি প্রতিনিয়ত। স্বপ্নের রঙ কি ? তাইতো স্বপ্নের কোন রঙ নেই। রঙই যেন একটি স্বপ্ন, যা জালবুনে ঘিরে রাখে আমাদের চার পাককে। প্রকৃতির মাটি, পাহাড়, পানি, আকাশ, সাগর কোথাও কি নেই বর্ণিল ছোঁয়া ? মনের অজান্তেই আমরা রাঙিয়ে নিই আমাদের চার পাককে,প্র্রতিদিনের জীবনকে।

কোন রঙ আনন্দে ভাসায় । আবার কোন রঙ ডুবিয়ে জমাট করে শোকের তলানীতে। রঙেরবৈচিত্র এমনই। রঙের মায়াবী জগৎ স্পর্শের বাইরে থেকে মূর্তকরে তোলে আমাদের চার পাশের জগৎ।

প্রতিটি রঙেরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা। কোন রঙ মনে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়ে যায়। কিছু কিছু রঙ দিয়ে যায় শীতল স্পর্শ। রঙেরভাষায় ফটে উঠে অন্তরের একান্ত অনুভূতি। লাল রঙ চোখ ধাঁধিয়ে মনের আনন্দের কথা বলে। এর ভাষায় জাগে উৎসবের উচ্ছাস। আবার সাদা রং হচ্ছে শান্তি ও সরলতায় ভরা। কোমল এই রঙ ঝকঝকে পরিচ্ছন্নতাকে প্রকাশ করে। আবার এই সাদা রঙ শান্তির প্রতীক। সবুজকে বলা হয় প্রশান্তির রঙ। সবুজের কণায় কণায় লুকিয়ে আছে প্রকৃতির সান্নিধ্য। কালো হল শোকের রঙ।

রহস্যময়তার রঙও বলা হয় কালোকে। নীল হচ্ছে ঠান্ডা ও শান্তধরনের রঙ। যার ভাষা প্রকাশ করে আমাদের অকৃত্রিম ভালবাসা আর চিরন্তন আবেগের কিছু অনুভূতি। প্রফুল্লতা বোজাতে ব্যবহার করা হয় হলুদ রঙ। আবার ধূসর রঙের ভাষায় ফুটে উঠে বিষাদের কালো ছায়া। এভাবেই বিভিন্ন রঙ তার নিজস্ব ভাষায় কথা বলে যায় প্রতিনিয়ত।

আমাদের বর্ণিল জীবনে রঙের ভাষার চিত্র হলো, জীবনের রঙ কখনো উৎসবে লাল কখনো সজীবতায় সবুজ। কখনো সাদায় স্নিগ্ধ তো শোকে কালো। আমাদের জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে থাকা এ রঙের উৎস কিন্তু প্রকৃতি। এক সময় প্রাকৃতিক নির্যাসকে রঙ হিসাবে ব্যাবহার করা হতো। মানুষ ধীরে ধীরে প্রকৃতির রঙ তুলে নিয়ে আসে তাদের জীবনে। এক রঙের সংস্পর্র্শে এসে বদলে যেতে থাকে আরেক রঙ। সৃষ্টি হয় নতুন নতুন রঙের। যা রঙের শৈল্পিক ভূবনকে দান করে পূর্ণতা। বৈচিত্রময় রঙের জগত নানানভাবে প্রভাব ফেলে আমাদের জীবন যাত্রায়। রঙের মজাটা কিন্তু এখানেই। ধরুন, লাল রঙ আপনাকে থেমে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয় সাবধান, বিপজ্জনক। আবার নব-বর্ষ বা অন্য কোন উৎসবে সেই লাল রঙই হয়ে উঠে উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ। কারণ, তখন লাল উৎসবের রঙ। অঙ্গে লাল বেনারসি শাড়ি জড়িয়ে বাঙালি নারী প্রবেশ করে নতুন জীবনে। চিরন্তন আনন্দের সেই রঙকেই আবার অমরা তুলনা করি সূর্য বা আগুনের সঙ্গে। লাল রঙ আমরা গ্রীষ্মের গরমে এড়িয়ে চলার চেষ্টাই করি। কারণ এর উজ্জলতা প্রখর রোদের জ্বালা ধরিয়ে দেয় চাখে। কিন্তু এ তোকিছুর পরও আমরা ভালবাসার অনুভূতি বোঝাতে বেচে নিই টকটকে লাল গোলাপ। শান্ত নীল রঙে আমরা মনের আবেগ বা অনুভূতি বোঝাই। স্নিগ্ধতা ও কোমলতায় জড়িয়ে থাকা এই নীল রঙ আবার কখনো কখনো হয়ে যায় বেদনার রঙ। আকাশী রঙে খুঁ জে পাই এক টুকরো আকাশী ঝলক। আবার সকালের ঝলমলে সোনা রোদ্দুর যেমন মনে এনে দেয় অনাবিল আনন্দ, ঠিক তেমনি ধূসর আকাশী মেঘলা আকাশের বিষাদ ভর করে অস্তিত্ব জুড়ে।

সারাদিনের কাজ শেষে ক্লান্ত-শ্রান্ত আমরা স্মরণাপন্ন হই সবুজের। তাজা ঝরঝ রে একটি অনুভূতি নিমিষেই দূর করে দেয় সব অবসাদ। এক রাশ রঙের ফুল ফুর্তি নিয়ে আসে আমাদের জীবনে। পাশাপাশি দিয়ে যায় স্নিগ্ধতা আর প্রশান্তির মৃদু ঝলক। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ভাব-গাম্ভির্যে ভরা পরিবেশে কোমল রঙ সাদা মনে নিয়ে আসে পবিত্র অনুভূতি। আবার শোকে মুয্যমান হয়ে আমরা জড়িয়ে নিই কালো রঙের পোশাক। আভিজাত্য প্রকাশ কর তেও কালো রঙ ব্যবহার করা হয়। অফিস-আদালতে কালো পোশাকে প্রকাশ পায় ব্যক্তিত্ব। একজন শিল্পীর বিচিত্র আঁচ ড়ে রাঙি য়ে তোলে তাঁর অপূর্ব শিল্পকর্ম। কখনো রঙের ছোঁয়া জাগি য়ে দেয় অপূর্ব স্বপ্নগু লোকে। তুলির রঙিন পরশে শুরু হয় নতুন জীবনের পথ চলা। জীবনের রঙিন স্বপ্নগুলো যখন পায় পূর্ণতা। তখন জীবনই হয়ে উঠে একটি স্বপ্নিল রঙেরবর্ণিল চিত্র।

লেখক:আবদুর রউফ পাটোয়ারী

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here