মা কথাটি ছোট্ট অতি

মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই ইহার চেয়ে নামটি মধু ত্রি ভূবনে নাই।
মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই ইহার চেয়ে নামটি মধুর ত্রি ভূবনে নাই।

 যুগে যুগে মায়ের সম্মান আত্মমর্যাদা আর বৃদ্ধকালীন নিরাপত্তার জন্য মনীষীরা ধর্মীয় চিন্তাবিদ মহামানবরা মায়ের জয়গান গেয়ে আসছেন। সন্তানের অতি আপন কাছের মানুষ হলো নিজের মা। মায়ের কাছে সন্তানের যেই অসীম ঋণ তা কোন দিন শোধ করা সন্তানের পক্ষে সম্ভব নয়। মাকে নিয়ে অনেক গান, কবিতা, কাহিনি সারা বিশ্বে বিদ্যমান।

যেমন-
মা কথাটি ছোট্ট অতি
কিন্তু যেন ভাই
ইহার চেয়ে নামটি মধুর
ত্রি ভূবনে নাই।

মায়ের দোয়ায় এ পৃথিবীতে অনেকেই ধন্য হয়েছেন। তার মধ্যে একটি ঘটনা বই-পুস্তকেও আমরা পড়েছি। সুলতানুল আরেফিন হযরত বায়েজিদ বোস্তামি (র.) ঘুমন্ত মায়ের পিপাসা নিবারণের জন্য গভীর জঙ্গলে গিয়ে কুপ থেকে পানি এনে পানির পাত্র হাতে নিয়ে সারারাত মায়ের শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকার কাহিনি। কবি ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যা সাগরের মায়ের প্রতি গভির ভালবাসার কথাও আমরা জানি।
প্রিয় নবি (স.) বলেছেন, পৃথিবীতে মাতা-পিতা শ্রদ্ধা ভক্তি ভালবাসার পাত্র। মাতা ও পিতার মধ্যে মা সন্তান কতৃক সর্বাগ্রে সেব্য তার পরে পিতা। তিনি বলেছেন, মাতা-পিতার সামনে উহ: শব্দটিও করিওনা। নিশ্চয়ই তোমাদের বেহেশত তোমাদের মায়ের পায়ের নিচে।
মায়েরা সন্তানদের গর্ভধারণ, মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পৃথিবীর মুখ দেখানো, অতি কষ্ট করে লালন-পালন করা, খাইয়ে পরিয়ে বড় করা ইত্যাদির মাধ্যমে সন্তানরা নিরাপদে বড় হয়। সন্তান পৃথিবিতে আসার পরে আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে-এর আড়ালে লেগে থাকে মায়ের স্নেহ, আদর-যত্ন, মায়া মমতা আর মায়াবি শাসন। অরো থাকে সবার অজান্তে আল্লাহর নিকট সন্তানের জন্য দোয়ার প্রার্থনা। মায়ের শ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে সন্তান মানুষের মতো মানুষ হয়। একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে মা নিজের সন্তানকে গড়তে তিল পরিমাণও ভুল করেন না। তাই সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছেন-
‘তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও,
আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেবো’।
মায়ের আদর্শে একজন সন্তান সমাজ দেশ তথা জাতিকে আলোকিত করে। ইহা সত্য এবং প্রমাণিত। সৃষ্টিকূলের প্রাণিরা মাকে ঘিরে বাস করে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে। গাছের আগডালে বানর মা ঝড়-বাদলের দিনে এক হাতে ভেজা গাছ ধরে থাকে আর অন্য হাতে সন্তানকে বুকে চেপে ধরে নিরাপদে রাখে। কুকুর তার সন্তানের কানে কামড়িয়ে ধরে ঝুলানো অবস্থায় নিরাপদ জায়গায় নিয়ে ধুদ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। বিড়াল তার সন্তানদের গাড়ের উপর কামড়িয়ে ধরে স্থানান্তর করে কোন উষ্ণ জায়গায় নিয়ে শরিরে ঠান্ডা লাগা থেকে নিরাপদ করে। মৌ মাছিরাও মা মাছিকে ঘিরে তৈরি করে মৌচাক। এভাবে প্রতিটি মায়ের নি:স্বার্থ ভালবাসার কারণে প্রাণিকূল পৃথিবীতে ধ্বংস হয়নি, নির্মূল হয়নি, নির্বংশ হয়নি।
সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো মায়ের কোল। যে কোন বিপদে-আপদে আগে জানেন মায়ের মন। তাই আগে ছুটে আসেন জননি মা। অসুস্থ সন্তান অতিশিগ্র সুস্থ হয় মায়ের অকৃত্রিম সেবায়। মায়ের হাতের যাদুর স্পর্শে বদলে যায় সন্তানের পথচলার দিনগুলো। সন্তানরা এমন নি:স্বার্থ আন্তরিকতা, মহানুভবতা, ভালবাসা মা ছাড়া কোথায় পাবে । তাইতো সন্তানের সাথে মায়ের ভালবাসার কোন শর্ত নেই। এই এক অনুভুতি, নি:স্বার্থ ভালবাসার নিখাঁদ মিশ্রণ।
সন্তানরা মাকে প্রতিদিন দেখে, প্রতিদিন ডাকে, প্রতিদিন ডাকে, প্রতিদিনই ভালবাসে। মায়ের সুখে সুখি হয় মায়ের দু:খে দুখি হয়। সন্তানের প্রতিদিনের চেনা মাকে তাদের কাঙ্খিত অতি প্রিয় ভালবাসার শব্দটি উচ্চারণ করে মা, আম্মু, মাম্মি, মম।

সন্তানের ক্ষুদ্র একটি উচ্চারণ মা ডাক। একটু সময় পাশে থাকা। যারা দূরে আছেন তারা মাকে হ্যালো মা বলে কেমন আছেন খোঁজ-খবর নেয়া। সন্তানের হ্যালো শব্দটির সাথে মা শব্দটি শুনলেই মায়ের মন শিউরে উঠে। মায়ের মনটি আকাশে খুশির ডানা মেলে। মায়ের চোখে সন্তানের চেয়ারা ভেসে উঠে। ভরে যায় মায়ের মন। ফুটে উঠে মুখে নির্মল হাসি। আমরা সবাই মাকে ভাল বাসবো। যাদের মা নেই তারা পৃথিবীর সব মাকেই ভাল বাসবো পৃথিবীর সব মাই আমাদের নিজের মা।

লেখক: আবদুর রউফ পাটোয়ারী

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here