গ্রামীণফোন ও রবিতে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিবে

গ্রামীণফোন ও রবি
গ্রামীণফোন ও রবি
গ্রামীণফোন ও রবিথ্রি-জি ও ফোর-জি লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না, তা জানতে চেয়ে গ্রামীণফোন ও রবিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বিটিআরসি। এর জবাব সন্তোষজনক না হলে অপারেটর দুটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তবে গ্রাহকদের ভোগান্তি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য যেকোনও পদক্ষেপই নিতে চায় তারা আইনের মধ্য থেকে।
সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিটিআরসির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি উঠে আসে।
সম্প্রতি এ দুটি অপারেটরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর আগে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেছিলেন, ‘আমরা লাইসেন্স বাতিলের দিকে যাবো কিনা, সেই বিষয়ে আলোচনা করবো। প্রথমে ৩০ দিনের নোটিশ দেবো। এর মধ্যে টাকা না দিলে আমরা প্রশাসক নিয়োগ করবো। প্রশাসক প্রতিষ্ঠান চালাবেন এবং আমাদের টাকা উদ্ধার করে দেবেন। সরকার টাকা পেলে প্রশাসক উঠিয়ে নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক জাকির হোসন খাঁন বলেন, ‘মোবাইল অপারেটর দুটির অনুকূলে আইন ও বিধি অনুযায়ী যে ধরনের ব্যবস্থা গৃহীত হোক না কেন, এক্ষেত্রে মোবাইল গ্রাহকের ওপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না। এ ব্যাপারে করণীয় বিভিন্ন বিষয়ে কমিশন সচেষ্ট।’ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনও সিদ্ধান্ত যেন গ্রাহকের বিপক্ষে না যায় সে বিষয়ে কমিশন সজাগ ও সচেতন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত এপ্রিলে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বকেয়া দাবি করে গ্রামীণফোনকে এবং ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা দাবি করে রবিকে নোটিশ পাঠায় বিটিআরসি। টাকা পরিশোধের জন্য অপারেটর দুটিকে দুই সপ্তাহ সময়ও দেয়া হয়। বিটিআরসি থেকে তখন বলা হয়, গ্রামীণফোন ও রবির সর্বশেষ অডিটের পরে এই ডিমান্ড লেটার পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দুই সপ্তাহের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বিটিআরসি গত ৪ জুলাই অপারেটর দুটির ব্যান্ডউইথ সীমিত করে দেয়া হয়। এরপর এই আদেশ প্রত্যাহার করে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেয়া বন্ধ করা হয়। এরপরও অপারেটর দুটি সমস্যা সমাধানে কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় গত ৫ সেপ্টেম্বর কেন অপারেটর দুটির লাইসেন্স বাতিল হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠায় বিটিআরসি।
বিটিআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অপারেটর দুটি জবাব দেয়ার পর কমিশন ঠিক করবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। যেহেতু নিয়মের মধ্যে রয়েছে, এজন্য প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০১-এর ৪৬(২) ধারা ধরে এগোনো হচ্ছে। ওই ধারাতেই সব পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে। জবাবের পর হয়তো লাইসেন্স স্থগিত করে প্রশাসক নিয়োগ করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার জন্যই প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হবে যাতে প্রতিষ্ঠান দুটি চলমান থাকে। প্রতিষ্ঠান দুটি চলমান না থাকলে গ্রাহকের স্বার্থ কোনোভাবেই রক্ষা হবে না।’ তবে অবশ্যই সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষেই প্রশাসক নিয়োগ করা হবে বলে তিনি জানান।
বৈদেশিক বিনিয়োগের বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা চান সত্যিকারের বিনিয়োগ আসুক, কোনোভাবেই যেন লুটেরারা না আসে।
লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত হলে অথর্ব অপারেটররা চলে গেলে কী হবে, এমন প্রশ্ন এখন টেলিকম খাতে ঘুরপাক খাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপারেটররা শাস্তি পেলেও গ্রাহকের যাতে কোনও ক্ষতি না হয় সেজন্যই বিকল্প ভেবে রাখা হয়েছে। প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হতে পারে। গ্রাহকের কোনও ভোগান্তি হবে না।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর সঙ্গে একাধিক পক্ষ জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে বিটিসিএল, সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি, ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আটিসি) কোম্পানি, এনটিটিএন, ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ), ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি), ইন্টার কানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স), ভেহিকেল ট্র্যাকিং সার্ভিস (ভিটিএস), কনটেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার, বিজ্ঞাপনী সংস্থা ইত্যাদি। অপারেটরগুলো বন্ধ হয়ে গেলে কোটি কোটি গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়বেন। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মীও কাজ হারাতে পারেন। এসব সমস্যা যাতে না হয় সেজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইনি কাঠামোর মধ্য থেকেই সমাধানের পথ খুঁজতে উদ্যোগী হয়েছে।
তবে বিটিআরসির দাবিকৃত টাকার অংকের সঙ্গে দুই অপারেটরেরই দ্বীমত রয়েছে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন সংস্থার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। গত ৭ জুলাই এক মিট দ্যা প্রেসে গ্রামীণ ফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফোলি বলেন, এটি অডিট আপত্তির টাকা। যার সঙ্গে আমরা একমত নই। তাই সালিশ আইন ২০০১-এর অনুযায়ী তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার দাবি জানিয়েছি আমরা। গত ২৩ জুন বিটিআরসিকে এ জন্য একটি নোটিশও পাঠানো হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী সালিশের কোনো সুযোগ নেই বলে পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমকে জানান বিটিআরসির চেয়ারম্যান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here