অপরাধ, সাম্প্রদায়িক সংশ্লিষ্টতা থাকলেই ‘অনুপ্রবেশকারী’: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে, কেবল তারাই আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য হবে।

আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছাড়া আওয়ামী লীগে যারা এসেছে, তারা অনুপ্রবেশকারী নয় বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার(৮নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

এসময় তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্টিতে যারা এসেছে, তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী নয়। অনেক ক্লিন ইমেজের লোকও আমাদের পার্টিতে এসেছে। এদের সাম্প্রদায়িক সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড যদি না থাকে এবং কোনো প্রকার মামলা মোকদ্দমা, অপরাধমূলক কাজে এদের সংশ্লিষ্টতা না থাকে, সেসব লোকেরা অবশ্যই অনুপ্রবেশকারী নয়।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে, শুধু তাদের ব্যাপারেই অনুপ্রবেশকারী হিসেবে সিলেক্ট করার বিষয়ে আমাদের নেত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিতর্কিত ছাড়া আওয়ামী লীগে কেউ বাদ যায় না। দায়িত্বের পরিবর্তন হয় শুধু।’

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পদত্যাগ করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির অনিবার্য পরিণতি। আমি এক কথায় এটাই বলব।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমরা প্রতিনিধি সম্মেলনে গিয়েছিলাম, তারপর পত্রপত্রিকায় রাজশাহীর খারাপ খবরে ভরে গেল। এটি আমাদের জন্য দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের আমাদের শাখা সংগঠনগুলো, জেলা-উপজেলা, থানা-ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটিগুলো নতুনভাবে করা হচ্ছে। সেসব বিষয়ে আমাদের নেতৃবৃন্দ বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেছেন।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সম্মেলনকে সামনে রেখে সকল তিক্ততা অবসান ঘটবে বলে আমি আশা করি। কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা হবে সুস্থ। অসুস্থ প্রতিযোগিতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’

ওবায়দুল কাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক নিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে এই সম্মেলন বাস্তবায়নে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের করণীয় ও প্রস্তুতি কি হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি।’

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here